সাহিত্য, রস, কলা – জিনিসগুলো আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। অনেক বড় বড় শিল্পকর্ম  দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে যা এঁকেছি, biology practical খাতার মত করে side note দিয়েই আজীবন বুঝিয়ে এসেছি, কোন সমস্যা হয়নি। বাংলা teacher এর অসীম কৃপায় পাস মার্ক জুটেছে। অনেক শখ করে পড়ালিখা নামক ঝামেলা পর্ব সাময়িক ভাবে বিদায় দেবার চেষ্টায় বরাবরই পরাজিত হয়েছি। যাই হোক, পরাজয়ে ডরে না বীর।

মনের ভাব প্রকাশের ইচ্ছাগুলো আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা সাহিত্য এবং রসবোধ দিয়েই fnf ও colleague দের কাজ চলেছে। কিন্তু বড় কোন কাজ আমার এই ভাঙ্গা সাহিত্য ও কলা দিয়ে করা সম্ভব না তাও হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে চলেছি। যাই হোক, it is time to flip the coin. আর কিছু না হোক, বেসিক photoshop এবং autocad এর কল্যাণে কলা related সে সমস্যা আর নেই।

কাজের কথায় আসি। fnf সবাই আমার জীবনের গল্প জিজ্ঞাসা করে করে হতাশ – আম্মুতো রীতিমত mind ই করে বসে থাকে। তাই প্লান করলাম আজ একটা জীবন এর গল্প শেয়ার করি।

Commando training চলছে। Punishment/পাঙ্গা নামক ভয়ঙ্কর বস্তুটি ই training এর সঙ্গী। শুরুটা যা দিয়েই হোক না কেন, শেষটা পাঙ্গা বা মাইল টেস্ট বা এই related কিছু দিয়ে। কিন্তু এইটা ভেবে বসে থাকলে training শেষ করা কখনই সম্ভব না। আর আমি একটু বেশি ই শান্তিপ্রিয়। তাই ওসব ভেবে সময় নষ্ট করার মত সময় আমার ছিলোনা। সাধারণত commando course এ গুটিকয়েক অফিসার থাকলেও আমাদের সাথে ছিল ১৯ জন। তাই প্লান করে পাঙ্গা ফাঁকি দেওয়া এক এক জনের শিল্পে পরিনত হল।

কোর্সের শেষ পর্যায়; সারভাইভাল নামক একটি হাজামত সামনে চলে এল। ট্রেইনিংটি খুবই সিম্পল। ৫/৬ দিন লবন ও সরিষার তেল ছাড়া অন্য কোন খাদ্যদ্রব্য বহন না করা, প্রতি রাতে ৫০+ কিঃমিঃ করে মাত্র ২৫০+ কিঃমিঃ হাটা এবং শেষরাতে এক বা একাধিক মাইনর অপারেশন করা এবং অপারেশান শেষ এ ফিরে আসা। প্রয়োজনীয় অস্ত্র, সাত দিনের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ এর সমান ওজনের বালি সহ বালির বস্তা, শিকার – বাসস্থান  related সরঞ্জামাদি, অপারেশান related যা কিছু প্রয়োজন সবই সাথে বহন করতে হয়। তাই খাদ্যদ্রব্য ছাড়া যে প্যাক এর ওজন কম থাকে বলা ঠিক হবে না। শুরু হল training  এর প্রস্তুতি।

সৌভাগ্যবশত কোন এক কারনে বৃহস্পতিবারটি ছুটি ছিল। শনিবার থেকে Exercise/Training শুরু. এক এক জন এর প্রস্তুতি এক এক রকম। যেমন কেউ শুধু ঘুমিয়েই প্রস্তুত হয়ে যায়। কেউ পেটভরে ২ দিনেই ৭ দিনের খাবার খেয়েই, কেউ প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেডি করে, কেউ টাকা লুকিয়ে রাখার নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে (successful হওয়ার rate একটু কম) কেউ gf এর সাথে ফোনে চার্জার লাগিয়ে দুইদিনে ৭ দিনের কথা বলে, কেউ কেউ টেনশন করতে করতে আবার কেউ কেউ অনেক কিছুর প্রস্তুতি নিয়ে শেষ পর্যায় এসে “সব বাদ, কিছুই লাগবে না।” আমি কোন গ্রুপের তা আর না বলি।

কোর্সের সিনিয়র স্টুডেন্ট এর রুমমেট। জুনিওর গুলো ছুটির দিনে সাত সকালে এসে রুম ঘুমানোর অযোগ্য করে ফেললো।

“স্যার, আমার এই প্ল্যানটি জীবনেও কেউ use করে নাই”

“ইইইহহ, খুব common, ক্যাডেট কলেজ – বি এম এ দুই জায়গাতেই use করেছি। অমুক একটা চুলা বানিয়েছে, মোমের চুলা, মোমের ভিতরে শুধু ৫০০/১০০০ টাকার নোট। তমুক এর বুটটা ভাল হয়েছে, brand new sole from mega city Botessor, বুট এর সেলাই কেটে sole বের করলেই পাওয়া যাবে hidden chamber, বা পায়ে কিছু, ডান পায়ে কিছু বড় নোট। অমুক এর সরিষার তেল এর বোতল দেখছেন স্যার, ৩৩% এ মধু। ডার্ক বোতল, তেল আর মধুর রং ও same. Oil is lighter than honey, so স্টাফ যতই চেষ্টা করুক না কেন, তেল ই বের হবে। আর ৬০% তেল ফেলে দিলেই pure honey.”

এমন সময় এক হারামি জুনিওর,

“স্যার, চলেন cache করি।”

“wow, sir cache করা গেলে পুরো কোম্পানির খাওয়ার বাবস্থা হবে।”

কথাটিতে পাত্তা না দিলেও কানে লেগে রইল। যে যা ই বলুক না কেন, এক সপ্তাহ না খেয়ে পানির উপর দিয়ে পার করা গেলেও প্রতিদিন ৫০+ কিঃমিঃ ৪৫+ কেঃজিঃ ওজন সহ দৌড় – হাটা শেষে অপারেশান করা তাও সিলেটের মত (ফালতু) জায়গায় সত্যিই কঠিন। I hate Sylhet. না আছে সাপ, পোকামাকড়, বন্য প্রাণী; না আছে ভাল কোন গাছ। শুধু চা বাগান; বিরক্তিকর তিতা পাতা; খাওয়ার অযোগ্য। কাঁকড়া গুলিও যেন ইউনিফরম চেনে, দৌড়িয়ে পালায়।

সিনিয়র স্টুডেন্টও মাশাআল্লাহ, এডভেঞ্চার -অপারেশান টাইপ কথা শুনলেই তার যেন রক্ত গরম হয়ে যায়।

“চল মুহাদ্দেস, যাবি নাকি।”

“আর এ ধুর, ১ম অপারেশান কমান্ডার, কিছু রেডি করি নাই, প্লাটুনের পোলাপানদের গাইড না করলে বিশাল ঘাপলা মারবে। রেস্ট বলেও তো কিছু আছে নাকি।”

“স্যার এটা কথা বললেন, অমুক ভাই সব দেখবে”

“তা ঠিক আছে”

“Come on, ভেবে দেখ। We know how to cache food, right? আর প্রতিদিন এক চামুচ গ্লুকোজ পেলেই কিন্তু রেস্ট টাইম এ সিলেটের মত (ফালতু) জায়গায় খাবার খুজে কেউ বিরক্ত হবে না। It is something real, life এ এই এক্সপেরিয়েন্স হবে না আমাদের।”

এই কথাটি ফেলানোর মত না। মনে মনে রাজি হয়ে গেছি।

“স্যার, সব ঠিক আছে, Problem হলো এত্তবড় সিলেটের কোন চিপায় অপারেশান এর হাইড অউট, আর কোথায় অপারেশান জানব কিভাবে?”

সবার মুড অফ হয়ে গেল, লজিকাল কথা। এইবার আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম না। বলেই ফেললাম।

“It is notmpossible at all, একটু tough & tricky. I’m in.”

“Impossible না মানে মুহাদ্দেস, তুই জানবি ক্যামনে কই যাব আমরা? কি বলিস তুই এসব?”

“বললামতো, হয়ে যাবে। cache করবি কিনা বল।”

“অবশ্যই স্যার।”

“ফাইন। কে কে আমাদের সাথে এখন বের হতে ইন্টারেস্টেড ডাক দে। Bring me all the maps of the company, কোন প্লাটুন আজ প্রিপারেশান নিবে না। I want 100% maps available. কিছু বাইক লাগবে, নো কার। সবার কাছে ভাল cache food এর আইডিয়া নে। খেজুর টাইপ। Manage some digging and cutting tools for cache. আর যার যত আইডিয়া আছে share কর।”

কোর্স এর ভাল দিক হলো যে যতই অলস হোক না কেন প্রয়োজনে ভাল সাড়া পাওয়া যায়। জুনিয়র পার্টি সবার সৈনিক buddy দের কল করতেই ১৫ মিনিটের মাঝেই সব জিনিস হাজির। এর মাঝে আমি প্লান শেয়ার করে ফেললাম।

প্লান সিম্পল। লালদেশ (শত্রুদেশ) এমন কিছু করতে পারবে না যা আমরা (সবুজদেশ) ধারণা করতে পারবনা। অপারেশান প্লান তারা সিলেটের ম্যাপ দিয়েই করেছে। So we will find out most used spots of that map sheet. We will go there and cache in the suitable location.

এক এক জন এর মাথায় ম্যাট্রিক্স এর বাইনারি চিন্তা ভাবনা চলে এল। কাজ শুরু করল। শারলক হোমস এর মত ম্যাপ এর উপর চুলচেরা অভিযান শুরু হল। কিছু সময় পরেই মার্ক করা ম্যাপ ও গ্রিড রেফারেন্স হাজির।

আমিও সময় নষ্ট না করে Italian Job এর Lyli এর মত মিলিটারি ম্যাপ কিভাবে মুঠোফোনে ইন্ট্রিগ্রেট করা যায়,  তার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করলাম। কিছু সময় গুগল ও প্লে স্টোরকে দিবার পর সহজ সমাধানও পাওয়া গেল।

সম্ভব্য জায়গাগুলো মুঠোফোনে রেডি। জুনিয়র পার্টিও বাইক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে রেডি। সিনিয়র স্টুডেন্টসহ ৪ টি বাইকে ৭-৮ জন মিলে ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস এর মত রাইড করে ছুটে চলেছি নিকটবর্তী স্থানে। পীরের বাজার এর কাছে এসেই বাইক গুলো স্লো হয়ে গেল; থেমে গেল শাহপরান হোটেল এর সামনে। কিসের অপারেশান কিসের কি! কুংফু পান্ডার মত বট-পরোটা-কলিজা না খেলে অপারেশান পসিবল না। আর্মি মার্চেস অন বেলি। পেট পুজো শেষে চলে গেলাম কাছের দোকানে। ব্ল্যাক চকোলেট, খেজুর, চিড়া, গুড়সহ আবার শুরু হল মিশন ইম্পসিবল।

cache

প্রতিটি জংলকে জিপিএস দিয়ে ট্র্যাক করে বাইকসহ অফ রোড রাইডের মাধ্যমে পৌঁছানোর পর বাইকটি মানুষবিহীন জংগলের পাশে নিকটবর্তী এভেইলএবল অফ ট্র‍্যাক এ ফেলিয়ে রেখে আমাদের কাজ হল নিকটবর্তী আদর্শ হাইড আউট রবিন হুড এর মত খুঁজে বের করা। এর সাথে অতিরিক্ত কাজ হিসেবে প্রতিটি স্থানেই থাকত ছোটোখাটো Hangover, বিড়ি ফোঁকা, ফটো-সেলফি নিয়ে মাস্তি, আড্ডাবাজি, গোপন স্থানে জোঁকের কামড়, সাঁকো ভেঙে পানিতে পরে যাওয়া, ডার্ক চকোলেট অল্প অল্প করে চুরি করে খাওয়া, হটাৎ করে প্রকৃতি প্রেমিক হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। এসবের মাঝেই একটু একটু করে সময় বের করে চালাতে থাকলাম আমাদের আসল অপারেশান; ভাল একটা করে জায়গা বের করে মাটি খুঁড়ে কিছু খাবার Cache করা।

cachecache

প্রতিটি স্থানে এমন ভাবে খাবার ভাগ করে রাখলাম যেন ১০০ জন মানুষের এক বেলার খাবার যোগান দেওয়া যায়। গর্ত করে এয়ার টাইট ভাবে প্যাক করা খেজুর, চিরা, গুড় ও ডার্ক চকলেট মাটি চাপা দেবার পর তার উপরে ঘাস লতাপাতা দিয়ে camouflage দিয়ে conceal করে আবার hangover, আড্ডাবাজি। লুকানোর পর আশেপাশের বিভিন্ন গাছে ছুরি দিয়ে বিভিন্ন ধরণের সাংকেতিক চিহ্ন স্থাপন করলাম যেন রাতের বেলাতেও খাবারগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। পথিমধ্যে ধুম টাইপ ভাব নিতে যেয়ে ২/১ বার বাইক নিয়ে হোঁচটও খেলাম, আশেপাশে একটু তাকিয়েই “নাহ, কেউ দেখেনি, আমরা আমরাই তো” – আবার যা তাই। হটাৎ খোলা চাপাতি হাতে চা বাগান এর কেয়ার টেকার বলে দাবি করা বাইকার এর সাথে সাক্ষাৎ হল, তাদের বুঝিয়ে দিলাম যে আমরা একা না, বিশাল গ্রুপ এর বাকিরা পেছনেই আছে, “আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনই কারন নাই। কোন হেল্প লাগলে বলেন, নেক্সট ৮-১০ দিন আমরা আশেপাশেই থাকব।” এরপর বীরদর্পে আস্তে করে কেটে পরলাম। স্থানীয় বাচ্চা পোলাপান্দের চকলেটও খাওয়ালাম, গাইড হিসেবে তারা অসাধারণ।

cache

সারাদিন এডভেঞ্চার শেষে ফিরে এলাম আবার সেই বিরক্তিকর স্কুলে, কিন্তু মেজাজটি ফুরফুরে।

ফিরে এসে এবার সকলে অভয়দেয়া শুরু করে দিলাম; তোদের শেষ ৪ দিন এর খাবার চিন্তা আমাদের, বাকি কাজ তোরা সামলা। Exercise সময়ে যদিও শেষ পর্যন্ত সবগুলো খাবার প্রয়োজনমত শত্রুদেশকে ফাঁকি দিয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; করতে পেরেছিলাম ২/১ দিন, কয়েক জন পেট ভরে খেতে পারলেও ১ম প্লাটুনের কপালে তিনটি করে, ২য় প্লাটুনের কপালে জুটেছিল আড়াইটি ও সর্বশেষ প্লাটুনের কপালে জুটেছিল দেড়টি করে খেজুর। চকলেট এর লোভ সামলানো সম্ভব হয়নি জন্য উদ্ধারকারী নিজেই তা সাবাড় করে এসেছিল। সে গল্প না হয় অন্য দিন।

[এই গল্পের সকল নাম, চরিত্র  ও ছবি কাল্পনিক; বাস্তবে কারো সাথে মিলে গেলে তা নিতান্তই কাকতলীয়। তারপরও কোন চরিত্র কোন কিছু মনে করতে পারলে knock করিস।]

https://i2.wp.com/lifeshowcase.com/wp-content/uploads/2016/05/real_life_op.jpg?fit=1024%2C683https://i2.wp.com/lifeshowcase.com/wp-content/uploads/2016/05/real_life_op.jpg?resize=150%2C150MithikUncategorizedblog,fun,masti,military,operation,survivalসাহিত্য, রস, কলা – জিনিসগুলো আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। অনেক বড় বড় শিল্পকর্ম  দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে যা এঁকেছি, biology practical খাতার মত করে side note দিয়েই আজীবন বুঝিয়ে এসেছি, কোন সমস্যা হয়নি। বাংলা teacher এর অসীম কৃপায় পাস মার্ক জুটেছে। অনেক শখ করে পড়ালিখা নামক ঝামেলা পর্ব সাময়িক ভাবে...Hobbies, Lifestyle, DIY, Projects, Personal Interests, Portfolio and so on